কিভাবে নিজেকে রহস্যময় করে তোলা যায়?



আমাদের জীবনে চলার পথে, নানা বাধা বিপত্তির মুখোমুখো হয়ে থাকি। আচ্ছা আমরা চাইলে সেই বাধা থেকে মুক্তি পেতে পারিনা? হ্যা এই পৃথিবীতে সমস্যা যখন আছে তখন অব্যশই তার সমাধান ও আছে। তাই হতাস না হয়ে চেষ্টা চালিয়ে যান রাস্তার খোজার জন্য।


আজকের টপিক হলো; কিভাবে নিজেকে রহস্যময় করে তোলা যায়। আচ্ছা ভেবে দেখুন তো আমরা মানুষ নামের জীবটি এক প্রকার রহস্যময়। তারা পৃথিবীতে জন্ম গ্রহণ করে প্রতিটি জিবের মতো মায়ের গর্ভে। তারপর সেখান থেকেই, জীবনযুদ্ধ শুরু হয়ে যায়। 

তারপর পর নির্ভর করে সে কিভাবে তার জীবন যাপন করবে। কেউ কেউ পড়াশোনা করে বড় বড় বেতনের চাকরির আশা করে। কেউ আবার নেশা-জাতীয় দ্রব্য সেবন করে থাকে। এভাবেই প্রতিটি মানুষ তার জীবিকা নির্বাহ করে।

এদের মধ্যে কারো কারো মনে হয়, আমি ওই ডাক্তার মানুষ হব, মানুষের সেবা করবো। অনেক সুনাম অর্জন করবো। আবার কেউ ভাবে আমি ডাক্তার হয়ে অনেক অনেক টাকা উপার্জন করবো। 

এগুলো পুরোটাই নির্ভর করে তার মন মানসিকতার উপর। এই একই ভাবে কিছু কিছু মানুষ ভাবে, ভাই আমি রহস্যময় হতে চাই, কবি টাইপের হতে চাই।

আসলেই চাইলেই তো আর সব কিছু হওয়া যায় না। তার জন্য লাগে সময়, পরিশ্রম, ধর্য্য। তারপরেই আজকে কিছু পয়েন্ট বলি যেগুলো, আপনাকে রহস্যময় বানিয়ে দিতে সক্ষম। পুরোপুরি না হলেও একপ্রকার রহস্যময় হয়ে যেতে পারবেন।


(১) কম কথা বলা।


কম কথা বলা খুবই প্রয়োজনীয় একজন বুদ্ধিমান মানুষ হতে গেলে। কিছু কিছু মানুষ দেখবেন, একের পর এক লেকচার দিয়েই চলেছে। একই কথা বার বার ঘুরিয়ে পেচিয়ে বলছে। এতে মানুষ কি ভাববে? আপনি জ্ঞানী মানুষ। মোটেই না। জ্ঞানী মানুষ তাদের বলা হয় যারা। খুব অল্প কথার মধ্যে, সব কিছু বলে দেন। আর আপনি যদি ভাবছেন রহস্যময় হতে, তাহলে অবশ্যই এই পয়েন্টটি মাথায় রাখতে হবে।



(২) নিজের সম্পর্কে বেশি কথা না বলা।

আমরা প্রায়ই যখন কারো সাথে কথা বলি, তখন নিজের সম্পর্কে বেশি বেশি বলার চেষ্টা করি। আর যখন নতুন কোনো মানুষের সাথে পরিচয় হয়। তখন তো আর কোনো কথায় নাই। আচ্ছা এটা কি না করলেই নয়? এ
এই পৃথিবীতে আমরা জীবন যাপনের জন্য যেটাই করি না কেনো। এটাই আমাদের কাছে অনেক। অন্য মানুষ কি ভাবলো তাতে আমার কি। আমি তো ওনার অধিনে কাজ করিনা, আর করলেই সেটা পরিশ্রম করে অর্থ উপার্জন করি।
হ্যা হতে পারি আমি একজন মটরসাইকেল মেকানিক, তারজন্য তো আমাকে আলাদা করে বলার প্রয়োজন নেই যে। আমার মোটরসাইকেল এর সো-রুম আছে।
তাই আমাদের উচিৎ নিজের সম্পর্কে কম করে কথা বলা

(৩) মনের কথা সর্বদা সবাইকে না বলা।

আমি ২০২১ সাল পরতেই ভেবেছি, খুব ভালো করে চলব, কারো সাথে খারাপ ব্যবহার করবো না। এই কথাটি যদি আমার কাছেরই এক বন্ধুকে বলি। তাহলে এখানে কি দোষের কিছু আছে? আমি বলব আছে। কারণ আমি কিভাবে চলব সেটা অন্য ব্যাক্তিকে কেনো বলবো। আমি আমার পরিকল্পনা মতো চলি এগিয়ে যায়।
আর যদি বলেও থাকেন, তাহলে তো বুঝতেই পারছেন। সে সেই বিষয়টা নিয়ে হাসাহাসি করবে, আপনাকে খেপাবে। আর যদি কোনো ক্রমে তার সাথে গন্ডগোল হয়। তাহলে তো কথাই নেই। আপনার ব্যাক্তিগত ব্যপার নিয়ে আপনাকে খেপাবে। কারণ সে তো জানে, আপনার দূর্বলতা কি?
তাই এই সব বিষয় নিয়ে ভেবে কথা বলুন।

(৪) সবার থেকে একটু অন্যরকম হওয়ার চেষ্টা করুন।

আপনি হয়তো ভাবছেন, লেখক পাগল হয়ে গেছে। মানুষ আবার অন্যরকম কিভাবে হয়? হ্যা হয়। যেমন ধরুন, আমি লেখক আমার চিন্তা ধারা হওয়া উচিৎ অন্য সব মানুষের থেকে আলাদা। যখন কোথায় ঘুরতে গেলেন, তখন অন্য মানুষ ছবি তোলা নিয়ে ব্যস্ত। আর একজন লেখক ভাবে কোথায় থেকে লেখা শুরু করবো। কি কি লেখব পরিবেশ টা কেমন। 
যখনই আপনি এইসব বিষয় নিয়ে ভাবতে যাবেন, তখন আপনি আপনার অন্য সব বন্ধুদের থেকে আলাদা হয়ে যাবেন। তাদের আর আপনার চিন্তা পুরোপুরো আলাদা হয়ে যাবে।

আপনি আবার ভাববেন না যে, রহস্যময় হওয়ার জন্য আপনাকে লেখক বা কবি হতে হবে। আমি তো শুধু মাত্র একটা উদাহরণ দিলাম।

(৫) নিজের মন কে শান্ত রাখতে হবে।

কিছু কিছু মানুষ আছে যারা অল্পতেই রেগে যায়। কিছু কিছু মানুষ তাদের রাগ দেখানোর জন্য, জিনিসপ্ত্র ভাজ্ঞে, মারামারি করে, আবার কেউ চুপ করে থাকে।
হ্যা আমার খুব ভালো লাগে, রেগে থাকা মানুষগুলোর চুপ থাকাকে। কারণ তারা জানে, কোনো কিছু ভেজ্ঞে বা কাউকে মেরে কোনো কিছুর সমাধান হয় না।

আর আপনার যদি হুট হাট রাগ করার অভ্যাস থাকে, তাহলে মেডিটেশন করুন, ব্যযাম করুন শরীর থেকে ঘাম ঝরান। দেখবেন আপনার মধ্যে অনেক পরিবর্তন এসেছে।

শেষ কথা

আমরা মানুষ আমরা চাইলে সব কিছুই করতে পারি। তবে আমাদের খারাপ অভ্যাস হচ্ছে সব কিছু একদিনেই পেতে চাই। যার কারণের আর সামনে এগুতে পারিন। 
আর রহস্যময় মানুষ হওয়াটা বড় কথা না। বড় কথা হচ্ছে, আমি যে কাজটি এখন করছি। সেটা কি আসলেই ঠিক কাজ করছি। মন কে একবার জিজ্ঞাসা করুন। সঠিক উত্তর পেয়ে যাবেন। 

ধন্যবাদ